একই আদেশে দুটি শীর্ষ মোবাইল অ্যাপ বিতরণ প্ল্যাটফর্মকে তাদের নিজ নিজ সেবা থেকে চরকির মোবাইল অ্যাপ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের এই আদেশের পর চরকি ইতোমধ্যে নতুন ডোমেইনে তাদের সেবা স্থানান্তর করেছে।
মামলার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। মুজাক্কির হোসেন ও সাখাওয়াত হাসান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে একটি শ্রেণিভিত্তিক মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী হিসেবে রয়েছে মিডিয়াস্টার লিমিটেড, যা চরকি ব্র্যান্ড নামে সেবাটি পরিচালনা করে, এবং এর মূল প্রতিষ্ঠান ট্রান্সকম লিমিটেড।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চরকি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য—যেমন নাম, ই-মেইল ঠিকানা, স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর এবং তারা কোন ভিডিও দেখেছেন—এসব তথ্য বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হতো।
বাদীপক্ষের দাবি, ব্যবহারকারীদের ভিডিও দেখার তথ্য এভাবে শেয়ার করা যুক্তরাষ্ট্রের ভিডিও গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের শামিল। মামলায় প্রতিটি অভিযোগিত লঙ্ঘনের জন্য আড়াই হাজার মার্কিন ডলার করে বিধিবদ্ধ ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
চরকিকে অনেক সময় একটি স্বতন্ত্র ওটিটি ব্র্যান্ড হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, এর আইনগত পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মিডিয়াস্টার লিমিটেড। চরকির নিজস্ব পরিচিতি ও ব্যবহারের শর্তাবলীতেও উল্লেখ রয়েছে যে, মিডিয়াস্টার লিমিটেড চরকি ব্র্যান্ড নামে এই সেবা পরিচালনা করে।
একই প্রতিষ্ঠান মিডিয়াস্টার লিমিটেড থেকেই জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো প্রকাশিত হয়। এছাড়া ট্রান্সকম গ্রুপের ওয়েবসাইটে প্রথম আলোকে মিডিয়াস্টারের প্রধান ব্র্যান্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে চরকির বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি কার্যত প্রথম আলো প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান মিডিয়াস্টার লিমিটেডের বিরুদ্ধেই পরিচালিত হচ্ছে।
তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন। আদালতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত রায় হয়নি এবং বিবাদীপক্ষের দায়ও আদালত এখনো নির্ধারণ করেননি।