সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হলেও সেসব প্রকল্প থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাস্তবে কাজে লাগাতে হবে। তা না হলে সেমিনার ও কর্মশালা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে।
দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ এবং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন শেখ রবিউল আলম। ভবিষ্যতের সড়ক নির্মাণ ও বড় প্রকল্প পরিকল্পনায় দুর্ঘটনার তথ্য কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
সড়ককে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নির্মাণের সময় থেকেই সড়কের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে। সড়ক বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সংস্কারের পরিবর্তে আগেই রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তায় পুলিশের জন্য বিশেষায়িত বিভাগ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, গতি নিয়ন্ত্রণ, মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
মন্ত্রী জানান, প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। কারও দায়িত্বহীনতা বা অবহেলার কারণে মানুষের প্রাণহানি মেনে নেওয়া যায় না। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
কর্মশালায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সড়ক নিরাপত্তা শুধু প্রকৌশলগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে জনস্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নও জড়িত। সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক দুর্ঘটনার তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা কার্যকর করা, হালনাগাদ নির্দেশিকা নিয়মিত কাজে যুক্ত করা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধারাবাহিক দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
কর্মশালায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।




