সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার চণ্ডীপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আদম আলী ষাটগাছা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে এবং সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, একদন্ত হাট থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে চণ্ডীপাশা এলাকায় দুর্বৃত্তরা আদম আলীর গতিরোধ করে। প্রথমে তাকে গুলি করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। একপর্যায়ে দৌড়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে গিয়ে পড়ে যান তিনি। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কারা এবং কী কারণে আদম আলীকে হত্যা করেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তমা হত্যা মামলার সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ষাটগাছা গ্রামের তমা খাতুনের গলায় গামছা পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তমার বাবা নায়েব আলী বাদী হয়ে আটঘরিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় আদম আলীকে প্রধান আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে আদম আলীকে প্রধান অভিযুক্ত রাখা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের আশেকপুর বাইপাস এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার পর আদম আলী মামলা তুলে নেওয়া ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছিলেন। তাঁর হুমকির কারণে তমার বাবা নায়েব আলী ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন।




