চিরতায় থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ জৈব সক্রিয় উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এসব সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য থাকলেও চিরতাকে কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
চিরতার সম্ভাব্য উপকারিতা
হজমে সহায়তা: চিরতার তিক্ত উপাদান হজম প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। বদহজম, পেট ভার লাগা বা ক্ষুধামন্দার ক্ষেত্রে অনেকে এটি ব্যবহার করেন।
ক্ষুধা বাড়াতে সহায়ক: চিরতার তিক্ত স্বাদ ক্ষুধা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ক্ষুধামন্দা থাকলে এর কারণ খুঁজে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য: চিরতায় থাকা কিছু উদ্ভিজ্জ উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো রোগ নিরাময় হয়—এমন প্রমাণ নেই।
রক্তে শর্করার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব: চিরতার কিছু উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এটি কোনোভাবেই ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয়।
ত্বকের সমস্যায় ঐতিহ্যগত ব্যবহার: ভেষজ চিকিৎসায় বিভিন্ন ত্বকের সমস্যায় চিরতা ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে ত্বকে সরাসরি ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
জ্বরে প্রচলিত ব্যবহার: উপমহাদেশের লোকজ চিকিৎসায় জ্বরের সময় চিরতা ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে জ্বরের কারণ জানা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড বা অন্য কোনো সংক্রমণে চিরতাকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নেওয়া উচিত নয়।
কীভাবে খাবেন?
চিরতা সাধারণত শুকনো অবস্থায় পানিতে ভিজিয়ে অথবা সেদ্ধ করে পান করা হয়। এর তিক্ত স্বাদের কারণে অনেকেই অল্প পরিমাণে ব্যবহার করেন।
চিরতা ভেজানো পানি: শুকনো চিরতা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন পানি ছেঁকে পান করার প্রচলন রয়েছে।
চিরতা সেদ্ধ পানি: পানিতে চিরতা দিয়ে অল্প সময় সেদ্ধ করে ঠান্ডা করার পর ছেঁকে পান করা যায়। অতিরিক্ত ঘন বা বেশি পরিমাণে পান করা উচিত নয়।
চিরতার গুঁড়া: শুকনো চিরতা গুঁড়া করেও ব্যবহার করা হয়। তবে নির্দিষ্ট মাত্রা সবার জন্য এক নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।
কারা সতর্ক থাকবেন?
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী, ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবনকারী এবং নিয়মিত কোনো ওষুধ গ্রহণকারীদের চিরতা ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যাদের রক্তচাপ কম থাকে, তাদেরও অতিরিক্ত চিরতা এড়িয়ে চলা ভালো।
অতিরিক্ত চিরতা সেবনে বমিভাব, পেটের অস্বস্তি বা ক্ষুধামন্দার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মনে রাখা জরুরি
চিরতার কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা থাকলেও এটিকে কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, জ্বর, লিভারের সমস্যা বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত চিরতা সেবন করা উচিত নয়।
সুস্থ থাকতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।




