মসজিদটির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে একটি বিশাল রাবার গাছ। ধারণা করা হয়, গাছটির বয়স এক শতাব্দীরও বেশি। একসময় উত্তর সিঙ্গাপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল রাবার বাগানে আচ্ছাদিত ছিল। সেই সময়ের একটি পরিত্যক্ত বাগানের শেষ জীবিত স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে গাছটিকে দেখা হয়। ফলে এটি শুধু একটি গাছ নয়, বরং সেম্বাওয়াংয়ের অতীতের জীবন্ত সাক্ষী।
রাবার বাগান থেকে কাম্পংয়ের স্মৃতি
উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের শুরুর দিকে সিঙ্গাপুরের উত্তরাঞ্চলে রাবার চাষের বিস্তার ঘটে। রাবার বাগান তৈরির জন্য আশপাশের কিছু এলাকা পরিবর্তিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৪০-এর দশকে কাম্পং টেঙ্গাহ গড়ে তুলতে বাগানের কিছু অংশ পরিষ্কার করা হয়।
এই এলাকার মুসলিম বাসিন্দাদের উদ্যোগেই পরবর্তী সময়ে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের সাপ্তাহিক সঞ্চয়ের অর্থ দিয়ে ১৯৬৩ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন। ফলে মসজিদটির ইতিহাসের সঙ্গে এখানকার স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শেকড়ও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
মোরগের ডাক, সবুজ প্রকৃতি ও হারানো গ্রামের আবহ
মসজিদটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো এর স্বতন্ত্র গ্রামীণ পরিবেশ। প্রাঙ্গণে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানো মোরগ-মুরগি, চারপাশের বিস্তীর্ণ সবুজ এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য মিলিয়ে জায়গাটি আধুনিক সিঙ্গাপুরের চেনা নগরদৃশ্য থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এক অনুভূতি তৈরি করে।
সেম্বাওয়াং বিচের কাছাকাছি মনোরম পরিবেশে অবস্থিত হওয়ায় মসজিদটি যেন অতীতের একটি কাম্পং জীবনের স্মৃতি ধরে রেখেছে। শান্ত পরিবেশ, প্রকৃতির সান্নিধ্য এবং পুরোনো দিনের আবহ দর্শনার্থীদের কাছে এটিকে একটি নস্টালজিক ও প্রশান্তির স্থান হিসেবে তুলে ধরে।
মসজিদে যাওয়ার পথও আলাদা অভিজ্ঞতা
ঐতিহাসিক এই মসজিদটি প্রধান সড়ক থেকে কিছুটা ভেতরে হওয়ায় গণপরিবহন থেকে নেমে কিছুটা পথ হেঁটে যেতে হয়। যাত্রীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, কাছাকাছি নামার একটি সুবিধাজনক স্থান হলো Aft Andrews Ave বাসস্টপ। সেখানে নিয়মিত Bus 882 চলাচল করে। বাসটি সেম্বাওয়াং বাস ইন্টারচেঞ্জ থেকে নেওয়া যায়, যা MRT স্টেশনের পাশেই অবস্থিত।
বাসস্টপ থেকে মসজিদ পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৭০০ মিটার। স্বাভাবিক গতিতে হাঁটলে সময় লাগে প্রায় ৯ মিনিট। পথটি অ্যান্ড্রুস অ্যাভিনিউ ধরে একটি শান্ত আবাসিক এলাকার পাশ দিয়ে এগিয়ে যায়। এরপর জালান সেলিমাং হয়ে জালান মেমপুরোংয়ের দিকে এগোলেই পৌঁছানো যায় ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদে।
আধুনিক নগররাষ্ট্র সিঙ্গাপুরের উন্নয়নের আড়ালে হারিয়ে যাওয়া কাম্পং জীবনের যে সামান্য স্মৃতি এখনো টিকে আছে, Masjid Petempatan Melayu Sembawang তারই এক অনন্য প্রতীক। মসজিদ, শতবর্ষী রাবার গাছ, সবুজ প্রকৃতি আর বিচরণকারী মোরগ—সব মিলিয়ে জায়গাটি যেন অতীতের সিঙ্গাপুরকে বর্তমানের সামনে জীবন্ত করে তোলে।




