প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের বক্তব্যে মন্ত্রী অধিবেশনের সভাপতিকে শুভেচ্ছা জানান এবং আইএইএ-এর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসিকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রসার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান।
মন্ত্রী বলেন, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএইএ-এর কারিগরি সহযোগিতা কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, পানি ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ উপকৃত হচ্ছে। সম্প্রতি ২০২৬–২০৩২ মেয়াদের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) স্বাক্ষর হওয়ায় আগামী বছরগুলোতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ঐতিহাসিক মাইলফলক উল্লেখ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ইউনিট-১-এ জ্বালানি স্থাপনের মাধ্যমে কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।
পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, পারমাণবিক বর্জ্য ও ব্যবহৃত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা, খাদ্য ও কৃষি উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে আইএইএ-এর ‘রেইজ অব হোপ’ উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের সুযোগ সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবন উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বলেও জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।
বক্তব্যের শেষে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রসার, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানান তিনি।




