রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, জামায়াতের কথিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তাঁর অভিযোগ, দলটি বাইরে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিলেও ভেতরে ইতিবাচক আলোচনা করছে। একই সঙ্গে উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের ব্যবহার করে জামায়াতপন্থীদের পদায়ন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জ্বালানি খাত এবং বিসিএস ক্যাডারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রসঙ্গে নুর বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে যে, জামায়াতই দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি। কিন্তু বাস্তবে অনেক নির্বাচনী আসনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত চিত্রের সঙ্গে মাঠের বাস্তবতার কোনো মিল ছিল না।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু তরুণ রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার আগেই জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নুরের ভাষ্য, জামায়াতকে যারা সমর্থন করেন তারা দলটির সঙ্গেই রয়েছেন। কিন্তু নতুন করে যদি কোনো প্রক্সি রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হয়, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
বিদেশি শক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। তাঁর অভিযোগ, জামায়াতকে সামনে রেখে দেশে উগ্রবাদের উত্থানের একটি বয়ান তৈরি করে ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করার অপচেষ্টা হতে পারে।
তিনি বলেন, জামায়াতের উত্থান হলে ভবিষ্যতে দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াতের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।