সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রীসহ তার বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের টার্গেট করে পেইড প্রচারণা চালাচ্ছে দেশী-বিদেশী চক্র বিএফটিআই হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গবেষণার জাতীয় থিংক ট্যাংক: বাণিজ্যমন্ত্রী ১১ হাজার ২০০ যুবক-যুবতীকে এআই প্রশিক্ষণ, জুলাইয়ে শুরু আন্তর্জাতিক আর্চারি আসর মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি, তিতাসের এলাকায় গ্যাস সংকট তীব্র ভ্যালু-বেইজড শিক্ষা ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশে জোর, প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন অগ্রাধিকার: ববি হাজ্জাজ বাংলাদেশের বন্দর খাতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ সৌদি আরবের টিকিট কালোবাজারি ও বিনা টিকিটে ভ্রমণ ঠেকাতে ৩ মাসে ১,৫১১ অভিযান, আদায় ৩.২০ কোটি টাকা ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যু কমেছে, বন্যা এলাকায় সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশের খাদ্য মজুত ইতিহাসের সর্বোচ্চ, নিরাপদ খাদ্যে কঠোর নজরদারি ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১২১ নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা
ঢাকা সিটি কলেজ

১৯৮ শিক্ষকের মধ্যে নিয়োগ অবৈধ ১০৫ জনের

১৯৮ শিক্ষকের মধ্যে নিয়োগ অবৈধ ১০৫ জনের
রাজধানীর ধানমন্ডির ঢাকা সিটি কলেজে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে আর্থিক ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাতেই ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সর্বশেষ অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজটিতে কর্মরত ১৯৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০৫ জনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সরকারি আইন, বিধিমালা ও বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে। একই সঙ্গে গত নয় বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাবে পাওয়া গেছে গুরুতর অসঙ্গতি। ব্যাংকিং বিধি ভেঙে নগদে ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ২১৯ টাকা ব্যয়, ভ্যাট ও উৎসে আয়কর বাবদ ৩১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৯ টাকার বেশি সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে গভর্নিং বডির সদস্যদের এক কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা সম্মানী দেওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ডিআইএ এসব অনিয়মকে আর্থিক বিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে চালানের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ক্ষেত্রে সরকারি বিধি অনুযায়ী উৎসে আয়কর কেটে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। এ খাতে একই সময়ে ২ লাখ ৯২ হাজার ৬৭ টাকার আয়করও জমা দেওয়া হয়নি। সবমিলিয়ে ভ্যাট ও আয়কর বাবদ ফাঁকি দেওয়া ৩১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৯ টাকা এবং গভর্নিং বডির নেওয়া এক কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা দ্রুত সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে তার চালানের অনুলিপি মন্ত্রণালয়ে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অডিট প্রতিবেদনে কলেজটির ভৌত অবকাঠামো ও প্রশাসনিক অবস্থারও বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে কলেজটিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন ১০ হাজার ৮১১ জন। প্রায় ৩৯৪ দশমিক ০৩ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে ১৮০টি শ্রেণিকক্ষ। তবে, পরিদর্শনের সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি ও একাডেমিক হিসাব পরিদর্শন দলের কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে কলেজটির বিরুদ্ধে চলমান একাধিক আইনি জটিলতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণসংক্রান্ত রিট পিটিশন (মামলা নং-৪৭২/২০১৩), ২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির মামলা (মামলা নং-১৯/২৫৮-২০১৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াতি মামলা (মামলা নং-১৩২৫২/২০১৩) এবং নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত দুটি মামলা (মামলা নং-০৭/১৮৫-২০১২ ও ০৬/১৮৪-২০১২)। তবে, এসব মামলা পরিচালনায় কলেজের তহবিল থেকে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার কোনো হিসাব বা প্রমাণকও অডিট দলকে দেখাতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

অডিট প্রতিবেদনে ঢাকা সিটি কলেজের নিয়োগ ও আর্থিক পরিচালনায় যেসব ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে, তা সরকারি আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সরকারি আইন অমান্য করে কোনো প্রতিষ্ঠানই চলতে পারে না। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি টাকার সঠিক হিসাব ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা আবশ্যক

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের অডিট অফিসার চন্দন কুমার দেব এবং সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মনিরুজ্জামান কলেজটি পরিদর্শন করে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এম. এম. সহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনে উল্লিখিত সব অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন ও রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণকসহ ‘ব্রডশিট’ আকারে জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক প্রফেসর এম. এম. সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন বজায় রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য।

অডিট প্রতিবেদনে ঢাকা সিটি কলেজের নিয়োগ ও আর্থিক পরিচালনায় যেসব ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে, তা সরকারি আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সরকারি আইন অমান্য করে কোনো প্রতিষ্ঠানই চলতে পারে না। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি টাকার সঠিক হিসাব ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা আবশ্যক।’

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিবেদনের ব্রডশিট জবাবের জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় দিয়েছি। জবাব ও প্রমাণক পর্যালোচনার পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ঢাকা ম্যাগাজিনের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
শিক্ষা থেকে আরও
ভ্যালু-বেইজড শিক্ষা ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশে জোর, প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন অগ্রাধিকার: ববি হাজ্জাজ

ভ্যালু-বেইজড শিক্ষা ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশে জোর, প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন অগ্রাধিকার: ববি হাজ্জাজ

২ ঘণ্টা আগে
লোগো, রিলস, স্লোগান তৈরি করে পেতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার

লোগো, রিলস, স্লোগান তৈরি করে পেতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার

১ দিন আগে
এসএসসির ফল ২০ জুলাই নয়, প্রকাশ নিয়ে জানাল শিক্ষা বোর্ড

এসএসসির ফল ২০ জুলাই নয়, প্রকাশ নিয়ে জানাল শিক্ষা বোর্ড

৩ দিন আগে
২০ জুলাই এসএসসির ফল প্রকাশের প্রস্তুতি, জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

২০ জুলাই এসএসসির ফল প্রকাশের প্রস্তুতি, জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

৪ দিন আগে
‘১২ কোটি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিয়েছি’—ভাইরাল সেই ছাত্রী মাইলস্টোনের নন, জিডির আবেদন

‘১২ কোটি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিয়েছি’—ভাইরাল সেই ছাত্রী মাইলস্টোনের নন, জিডির আবেদন

৫ দিন আগে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

৬ দিন আগে