বর্তমানে দিল্লিতে বড় কোনো বিক্ষোভ বা গণসমাবেশের কথা উঠলেই যন্তর মন্তরের নাম সামনে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিভিন্ন আন্দোলন, অনশন এবং অবস্থান কর্মসূচির কেন্দ্রও হয়ে উঠেছে এই স্থান।
কীভাবে প্রতিবাদের কেন্দ্র হলো?
১৯৯৩ সালে সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকায় জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ নিশ্চিত করতে যন্তর মন্তর রোডকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
এর আগে দিল্লির প্রধান প্রতিবাদস্থল ছিল বোট ক্লাব এলাকা। তবে ১৯৮৮ সালে প্রায় পাঁচ লাখ কৃষকের বিশাল সমাবেশের পর সেখানে নিরাপত্তা ও যানজটের সমস্যা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই স্থানে সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
কেন যন্তর মন্তরই?
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে হলেও যন্তর মন্তর সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে তুলনামূলক দূরে অবস্থিত। ফলে এখানে প্রতিবাদ কর্মসূচি হলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকায় সরাসরি প্রভাব কম পড়ে। একই সঙ্গে এটি সহজে পৌঁছানো যায় এমন একটি স্থান হওয়ায় আন্দোলনকারীদের কাছেও এটি সুবিধাজনক।
২০১৮ সালে Supreme Court of India রায় দিয়ে জানায়, আইন মেনে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের অংশ।
সাম্প্রতিক আন্দোলনের কেন্দ্র
সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ নামে একটি আন্দোলনের অবস্থান কর্মসূচির কেন্দ্রও যন্তর মন্তর। সংগঠনটির ডাকে সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা হলে মধ্য দিল্লিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে আন্দোলনের নেতৃত্ব জানায়, আপাতত নতুন সড়ক পদযাত্রা না হলেও যন্তর মন্তরে তাদের অনির্দিষ্টকালের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তিনশো বছরের পুরোনো এই স্থাপনা তাই আজ শুধু জ্যোতির্বিজ্ঞানের ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়, বরং ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ ও নাগরিক মতপ্রকাশের অন্যতম প্রতীক হিসেবেও পরিচিত।