একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি কলকাতা থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সোমবার (২৫ জুলাই) যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি অংশ নিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তার অংশগ্রহণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে শুরু হওয়া আন্দোলন বর্তমানে ভারতের অন্যতম বড় ছাত্র আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা এতে সমর্থন জানাচ্ছেন। পাশাপাশি কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দলও আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি জাতীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সংসদ ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিভিন্ন ইস্যুতে চাপের মুখে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস জাতীয় পর্যায়ের একটি আলোচিত আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে যুক্ত করতে চাইতে পারে।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ‘শুরু থেকেই আমি ছাত্রছাত্রীদের পাশে রয়েছি। নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন শুধু ন্যায়বিচারের দাবি নয়, দেশের প্রতিটি তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।’
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে তিনি নিজেও আন্দোলনে যোগ দেবেন। এরপর থেকেই তার দিল্লি সফর নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর পরীক্ষা বাতিল, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি সেই আন্দোলনেরই অংশ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সোমবার যন্তর মন্তরে উপস্থিত হন, তাহলে আন্দোলনটি নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষকরা। তার সফর ও সম্ভাব্য বক্তব্যের দিকে নজর থাকবে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও।