গত আগস্টে ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য চালের সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে সেদ্ধ, সাদা ও আতপ চালের দাম বেড়ে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম টনপ্রতি ৩৭৭ ডলারে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক ধান গবেষণাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব চাল রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ ভারত থেকে আসে। দেশটি বছরে গড়ে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ২০ লাখ টন চাল রপ্তানি করে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামও বছরে প্রায় ৭০-৮৭ লাখ এবং ৭০-৮০ লাখ টন চাল রপ্তানি করে।
থাইল্যান্ডে পানির সংকট ও এল নিনোর প্রভাবে আগামী বিপণন বছরে চাল উৎপাদন প্রায় ৪ লাখ টন বা ২ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ। চাও ফ্রায়া নদীর অববাহিকার প্রধান চার জলাধারে পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় মৌসুমবহির্ভূত ধান চাষও কমাতে হচ্ছে।
এদিকে বড় উৎপাদনকারী দেশ হলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ইন্দোনেশিয়াকে প্রতিবছর ২০ থেকে ৪০ লাখ টন চাল আমদানি করতে হয়। ফলে ভারত ও থাইল্যান্ডের সরবরাহ কমে গেলে দেশটির মতো আমদানিনির্ভর বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ভিয়েতনামে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম বর্তমানে টনপ্রতি ৪৪০-৪৪৫ ডলারে তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এশিয়ার প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোতে সংকট দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক খাদ্যনিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।




