মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, গাজী নজরুল বর্তমানে পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী দল। একই সঙ্গে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।
তদন্তের স্বার্থে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে তলব করা হতে পারে বলেও জানা গেছে। তদন্তকারীদের দাবি, মামলার এজাহারের কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করতে তার বক্তব্য প্রয়োজন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর বিষয়ে গাজী নজরুল দাবি করেছেন, ভিডিওটি তার শ্বশুরের বাসায় ধারণ করা হয়েছে এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে ওবায়দুর রহমানের অভিযোগ, গাজী নজরুল তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন এবং মারধর করেছেন। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির সত্যতা যাচাইয়ে মাঠপর্যায়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় এবং এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবহিত করে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার রাকিব খান জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মামলার বাদী ওবায়দুর রহমান এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ছিলেন। একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় জানাজানি হওয়ার পর থেকে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে গত ১৪ জুলাই তাকে ডেকে নিয়ে মারধর এবং শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আমিনুর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।