বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এমপিআইয়ের দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক প্রধান ডায়না রেইচের নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে। এ সময় দুই দেশের মধ্যে কৃষি ও খাদ্যপণ্য বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের উচ্চমানের বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উন্নয়ন ও ক্রমবর্ধমান ভোক্তাবাজারের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
কৃষিপ্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প, কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বিশাল ভোক্তাবাজারে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করার আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশ থেকে কৃষিজাত পণ্য, তাজা ফল, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের নিউজিল্যান্ডের বাজারে প্রবেশ সহজীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে ইমপোর্ট হেলথ স্ট্যান্ডার্ডস, স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থা এবং পণ্য মানের পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উন্নত ফুড টেস্টিং ল্যাব স্থাপন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, পেস্টিসাইড পরীক্ষা, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং ই-ফাইটো সার্টিফিকেশন ব্যবস্থায় নিউজিল্যান্ডের কারিগরি সহায়তা কামনা করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা, আরসিইপিতে যোগদানে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন এবং এলডিসি উত্তরণে ট্রানজিশন সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক ফোরাম গঠন, প্রযুক্তিগত ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি, ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ এবং নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে যে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।




