ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্রে বিতর্কিত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় নতুন সড়ক, ভবন ও হেলিপ্যাডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের চিত্র পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তারা ঐতিহ্যগত ইয়াক চরানো, শিকার ও জীবিকার এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
অরুণাচল প্রদেশকে চীন নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে এবং অঞ্চলটিকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ নামে অভিহিত করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও আদিবাসী সংগঠনগুলোর দাবি, সীমান্তের ভারতীয় অংশের ভেতরেও চীনা বাহিনীর উপস্থিতি ও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে সীমান্তের চীনা নিয়ন্ত্রিত অংশের ঝারি শহরের আশপাশে নতুন নির্মাণকাজ, সড়ক প্রশস্তকরণ ও হেলিপ্যাড তৈরির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা। কয়েকটি স্থাপনা সামরিক কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে তাদের ধারণা।
এদিকে আগস্টে স্থানীয় বাসিন্দা ও আদিবাসী সংগঠনের প্রতিনিধিদের একটি দল গেলেমো ও তাসকিং এলাকায় সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করে। তাদের দাবি, যেসব এলাকায় আগে ভারতীয় সেনাদের নিয়মিত টহল ছিল, সেসব এলাকায় এখন চীনা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত শিকার ও ইয়াক চরানোর এলাকাতেও স্থানীয়দের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অরুণাচলের স্থানীয় সংগঠনগুলো বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। তাদের দাবি, চীনের সড়ক, সেতু ও সামরিক স্থাপনা নির্মাণের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ধীরে ধীরে ঐতিহ্যগত জমি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে। একই সঙ্গে বিষয়টিকে শুধু স্থানীয় উন্নয়ন নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের বিষয় হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কের বড় অবনতির কয়েক বছর পর শি জিনপিংয়ের ভারত সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই দেশের সরকার সীমান্ত পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকার কথা বললেও স্থানীয়দের অভিযোগ ও স্যাটেলাইট চিত্রে সীমান্ত এলাকায় চীনের অবকাঠামো সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলছে।




