গত মঙ্গলবার বিচারপতি অরুণ দেব চৌধুরী এক মুসলিম ব্যক্তির করা আবেদনের শুনানি শেষে এ পর্যবেক্ষণ দেন। তবে পুরোনো আইনের অধীনে নয়, ২০২৪ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নিবন্ধন আইনের আওতায় বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে ওই ব্যক্তি জানান, ২০১৬ সালে তার বিয়ে হয়। ২০১৮ সালে স্ত্রী আলাদা হয়ে যাওয়ার পর একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হলে ২০২৬ সালের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে পৃথকভাবে তিনবার তালাক উচ্চারণ করেন তিনি।
তালাক-ই-হাসান মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে প্রচলিত এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তিনবার তালাক উচ্চারণ করা হয়। প্রতিবারের মধ্যে পুনর্মিলনের সুযোগ থাকে। এটি ২০১৭ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে অসাংবিধানিক ঘোষিত তাৎক্ষণিক তিন তালাক থেকে ভিন্ন।
আবেদনকারী দাবি করেন, তালাক-ই-হাসানের ওপর ভারতে কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই এবং তিনি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন। অন্যদিকে আসাম সরকার জানায়, আগে এ ধরনের বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত আইনটি বাতিল হয়ে গেছে।
হাইকোর্ট বলেন, আবেদনকারী যে পদ্ধতিতে তালাক-ই-হাসান উচ্চারণ করেছেন, তা বৈধ তালাকের একটি রূপ এবং বর্তমানে দেশে নিষিদ্ধ নয়। তবে পুরোনো আইন বাতিল হওয়ায় ২০২৪ সালের আইনের অধীনে নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কাছে যেতে হবে।
আদালত আরও স্পষ্ট করে বলেন, শুনানিতে ওই ব্যক্তির স্ত্রী উপস্থিত না থাকায় তার আইনগত অধিকার ক্ষুণ্ন হয়নি। তিনি চাইলে তালাক-ই-হাসানের বৈধতা বা কার্যকারিতা উপযুক্ত আদালত বা আইনগত ফোরামে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।




