রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অবস্থান জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে সম্মান জানিয়ে সাংবিধানিক মতপার্থক্য নিরসন করাই গণতান্ত্রিক পথ। গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সাধারণ সংসদীয় সংশোধন প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার করা জনগণের ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত এমপিদের সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। বিরোধী দলের এমপিরা দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এ বিষয়টি বর্তমান সাংবিধানিক সংকটের অন্যতম কারণ।
সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ সংসদকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দিলেও এ ক্ষমতা সীমাহীন নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ের কথা তুলে ধরে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের নজির উল্লেখ করেন তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো গণভোটের রায় যথাযথভাবে কার্যকর করা, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য করে পরিষদ কার্যকর করা।
একই সঙ্গে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনে একতরফা উদ্যোগ না নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা, গণভোটের রায় ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।
এদিকে, বিশেষ সংসদীয় কমিটি জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোকে সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নির্ধারণের পাশাপাশি বিচার বিভাগ, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
গত ২৯ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো সদস্যের নাম না দেওয়ায় ১৩ জুলাই ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।




