এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। গুরুতর দগ্ধ ও আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর অনেকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরলেও, অনেকের শরীরে এখনো পোড়া ক্ষতের দাগ এবং মনে রয়ে গেছে সেই বিভীষিকাময় দিনের ভয়াবহ স্মৃতি।
প্রথম বর্ষপূর্তিতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণ করছে মাইলস্টোন পরিবার।
দুর্ঘটনার পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রায় তিন মাসের তদন্তে ১৫০ জনের সাক্ষ্য এবং ১৬৮টি তথ্য বিশ্লেষণ করে ৩৩ দফা সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নজনিত ত্রুটির কারণে প্রশিক্ষণ চলাকালে পরিস্থিতি পাইলটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবাহিনীর সব প্রাথমিক প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন ঢাকার বাইরে পরিচালনার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি বরিশাল ও বগুড়া বিমানঘাঁটির রানওয়ে সম্প্রসারণেরও পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি রাজউকের বিল্ডিং কোড অনুসারে নির্মিত হয়নি। বিধি অনুযায়ী যেখানে অন্তত তিনটি সিঁড়ি থাকার কথা, সেখানে ছিল মাত্র একটি। পর্যাপ্ত সিঁড়ি থাকলে হতাহতের সংখ্যা আরও কম হতে পারত বলে মত দেয় তদন্ত কমিটি।
এদিকে দুর্ঘটনায় আহত অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও, অনেকে এখনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক জটিলতার সঙ্গে লড়াই করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন দুর্ঘটনার পর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এক বছর পর আবারও সামনে এসেছে বিমান নিরাপত্তার বিষয়টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর সামরিক প্রশিক্ষণ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিরাপত্তা প্রটোকল এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি অসংখ্য পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতির প্রতীক। এক বছর পরও সেই দিনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, জননিরাপত্তা, জবাবদিহি এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।