বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ-এ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ প্রকৌশলীদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে বিপ্লবীদের সরকারের অংশ হওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে আজ তাদের সাফল্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যর্থতার দায়ও বহন করতে হচ্ছে। তার ভাষায়, বাইরে থেকে রাষ্ট্র পরিবর্তনের আদর্শিক ভিত্তি ও ‘জুলাই দর্শন’ প্রতিষ্ঠার কাজ করলে সেটি আরও কার্যকর হতো।
তিনি কিউবার বিপ্লবের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে বিপ্লবী নেতৃত্ব নিজেদের রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলেছিল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের একটি বিপ্লবী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার সুযোগ ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূস-কে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি সঠিক বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, সে সময় দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ড. ইউনূসের বিকল্প ছিল না।
মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাকে তিনি শুরু থেকেই একটি ‘বিপ্লব’ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তার মতে, এটি শুধু সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না, বরং রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই সংঘটিত হয়েছিল।
তিনি জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না এবং জাতি তাদের স্মরণে রাখবে।
জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের উদ্দেশে তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বিভিন্ন সংগঠন বা পরিচয়ে বিভক্ত না হয়ে ‘জুলাই বিপ্লবের’ আদর্শের ভিত্তিতে একসঙ্গে থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল: এটি ছিল নিরস্ত্র, বিদেশি শক্তির প্রত্যক্ষ প্রভাবমুক্ত এবং কোনো একক নেতৃত্বের পরিবর্তে অংশগ্রহণকারীদের সম্মিলিত নেতৃত্বে পরিচালিত।