সমালোচনায় বলা হচ্ছে, স্পিকারের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে ‘স্পিকার’ শব্দটি ‘স্পীকার’ লেখা হয়েছে, যা প্রচলিত বাংলা বানানরীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একইভাবে ‘রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ’ বাক্যাংশে ‘পদ’ শব্দের পুনরাবৃত্তিকে ভাষাগত বাহুল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সম্বোধনে ‘শ্রদ্ধাজনেষু’ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, প্রচলিত ও অভিধানসম্মত রূপ হলো ‘শ্রদ্ধাভাজনেষু’।
তারিখ লেখার ক্ষেত্রেও ‘২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল’ ব্যবহারে বাহুল্য রয়েছে বলে মত দেওয়া হয়েছে। কারণ ‘খ্রি.’ (খ্রিষ্টাব্দ) এবং ‘সন’ একই অর্থ বহন করে। ভাষাবিদদের মতে, এ ক্ষেত্রে ‘২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ এপ্রিল’ অথবা ‘২০২৩ সনের ২৪ এপ্রিল’—যেকোনো একটি রূপ ব্যবহারই যথাযথ।
পত্রে ‘কোন’ ও ‘কোনো’ শব্দের ব্যবহার, ‘পরিক্ষা’ ও ‘ইদানিং’ বানান, ‘ডায়াবেটিস’ শব্দের রূপ, ‘হৃদরোগ’ ও ‘হৃদযন্ত্র’ শব্দের গঠন, ‘রোগ সমূহের’ লেখার ধরন, ‘অসমার্থ্যতা’ শব্দের প্রয়োগ এবং বিরামচিহ্ন ও বন্ধনীর ব্যবহার নিয়েও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে।
এ ছাড়া বন্ধনীর আগে-পরে ফাঁক না রাখা, পূর্ণ বাক্য না হওয়া সত্ত্বেও দাঁড়ি ব্যবহারসহ কয়েকটি উপস্থাপনাগত অসংগতির কথাও আলোচনায় উঠে এসেছে।
তবে পদত্যাগপত্রে উত্থাপিত এসব ভাষাগত ও বানানসংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে এসব দাবির বিষয়ে বাংলা একাডেমি বা অন্য কোনো ভাষা বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নও প্রকাশিত হয়নি।