এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংককে যেতে পারেন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) তাঁকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ থাকায় তাকেও সঙ্গে নিয়ে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি বাইপাস সার্জারির পর তিনি ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগে আক্রান্ত হন, যার কারণে মাঝে মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।
বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কয়েক দিন ধরেই তাঁর ব্যক্তিগত মালপত্র গুলশানের বাসভবনে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। বাড়িটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতার কাজও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন শিগগিরই এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সংবিধান ও আইন অনুসরণ করেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেও হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে বসবাস করবেন না। তিনি স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই অবস্থান করবেন। তবে রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবেন বঙ্গভবন থেকেই।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবনসহ আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।