মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ আদেশ জারি করা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে।
জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে জেলা ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় উত্তেজনা, সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় হবিগঞ্জ পৌরসভার মাঠ, তিনকোনা পুকুরপাড়, শায়েস্তানগর, সিনেমা হল সড়ক, চৌধুরী বাজার, টাউন হল রোড, কোর্ট স্টেশন এলাকা এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকাসহ সংশ্লিষ্ট স্থানে কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ বা জনসমাগম করা যাবে না।
এছাড়া ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা, দেশীয় অস্ত্র কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন কোনো বস্তু বহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ আদেশ জারি করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে দলটি সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় হবিগঞ্জ পৌরসভা মাঠে সমাবেশের ঘোষণা দেয় এনসিপি। একই সময়ে ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কর্মসূচি ঘোষণার পর শহরে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।