রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক চাপ নয়, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে বিকেল ৫টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়েই এ ব্রিফিং আয়োজন করা হয়েছে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইসলামী ব্যাংকের একটি শীর্ষ পদ ছেড়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তার পদত্যাগের দাবি তোলে। বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভ ও বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়। তবে সাংবিধানিক জটিলতার কথা উল্লেখ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণে সম্মত হয়নি। বিএনপিও তখন এ বিষয়ে সমর্থন দেয়নি।
যদিও তিনি ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ পরিচালনা করেন, এরপর তার রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ে। নিয়মিত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, তিনি দায়িত্ব ছাড়তে আগ্রহী। বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনায় নিজেকে অপমানিত মনে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের আলোচনা নতুন করে শুরু হলেও সে সময় বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। তবে চার মাসের ব্যবধানে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই জল্পনার অবসান ঘটল।